ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে সপ্তাহজুড়ে অভিযান, অবৈধ দখল ও ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসন

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার মুরাদনগরে সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারাবাহিক এ সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে কোটি টাকার সরকারি ভূমি, উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ দখল, অপসারণ করা হয়েছে ড্রেজার ও এক্সক্যাভেটর এবং পরিচালিত হয়েছে একাধিক মোবাইল কোর্ট।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোরারচর বাজার এলাকায় অবৈধ দখলমুক্ত করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে পূর্বধৈইর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৫টি অবৈধ ড্রেজার ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ড্রেজিং পরিচালনার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের মেলামচর এলাকা থেকে আরও ২টি ড্রেজার ও প্রায় ১ হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়। এছাড়া জাহাপুর ইউনিয়নে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ১টি ড্রেজার এবং প্রায় ৫০০ ফুট পাইপ অপসারণ করে প্রশাসন।

অন্যদিকে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি এক্সক্যাভেটর অপসারণ এবং ৪টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব যন্ত্রপাতি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এ ছাড়া কোম্পানিগঞ্জ বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের জন্য জায়গা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জনভোগান্তির অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থদণ্ড সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বার্থ নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধ দখল, ড্রেজিং ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

সপ্তাহব্যাপী এ অভিযানে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত মুসল্লির মৃত্যু

মুরাদনগরে সপ্তাহজুড়ে অভিযান, অবৈধ দখল ও ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসন

আপডেট সময় ০৬:৫০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার মুরাদনগরে সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারাবাহিক এ সাঁড়াশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে কোটি টাকার সরকারি ভূমি, উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ দখল, অপসারণ করা হয়েছে ড্রেজার ও এক্সক্যাভেটর এবং পরিচালিত হয়েছে একাধিক মোবাইল কোর্ট।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোরারচর বাজার এলাকায় অবৈধ দখলমুক্ত করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে পূর্বধৈইর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৫টি অবৈধ ড্রেজার ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ড্রেজিং পরিচালনার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের মেলামচর এলাকা থেকে আরও ২টি ড্রেজার ও প্রায় ১ হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়। এছাড়া জাহাপুর ইউনিয়নে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ১টি ড্রেজার এবং প্রায় ৫০০ ফুট পাইপ অপসারণ করে প্রশাসন।

অন্যদিকে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি এক্সক্যাভেটর অপসারণ এবং ৪টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব যন্ত্রপাতি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এ ছাড়া কোম্পানিগঞ্জ বাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের জন্য জায়গা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জনভোগান্তির অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থদণ্ড সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বার্থ নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধ দখল, ড্রেজিং ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

সপ্তাহব্যাপী এ অভিযানে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন