ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঙ্গরায় গৃহবধূর মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও!

রায়হান চৌধুরী মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় বিয়ের প্রায় ১৫ বছর পর লক্ষ্মী রানী (নাম অপরিবর্তিত) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে চলে যান তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার। তবে এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত লক্ষ্মী রানী মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের (মালিশাইর) ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে। তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার একই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনী মোহন সরকারের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। দম্পতির কোনো সন্তান নেই।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই লক্ষ্মী রানীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো।

লক্ষ্মী রানীর বড় ভাই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন বিশ্বজিৎ। বোনের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তাঁদের মা পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজিৎকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগ

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের দাবি, গত রোববার দুপুরে তাঁর বোনকে মারধর করে হত্যার পর ঘরের তীরের সঙ্গে কাপড় বেঁধে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার দিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে বিশ্বজিৎ চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার বোনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার বোনের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস আরও জানান, এ ঘটনায় তাঁদের বাবা ননী চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, ঘটনাটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা মামলা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।

লক্ষ্মী রানীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঙ্গরায় গৃহবধূর মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও!

বাঙ্গরায় গৃহবধূর মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও!

আপডেট সময় ০৭:৩২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

রায়হান চৌধুরী মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলায় বিয়ের প্রায় ১৫ বছর পর লক্ষ্মী রানী (নাম অপরিবর্তিত) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে চলে যান তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার। তবে এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত লক্ষ্মী রানী মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের (মালিশাইর) ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে। তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার একই উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনী মোহন সরকারের ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। দম্পতির কোনো সন্তান নেই।

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই লক্ষ্মী রানীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো।

লক্ষ্মী রানীর বড় ভাই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন বিশ্বজিৎ। বোনের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তাঁদের মা পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজিৎকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগ

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের দাবি, গত রোববার দুপুরে তাঁর বোনকে মারধর করে হত্যার পর ঘরের তীরের সঙ্গে কাপড় বেঁধে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার দিকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে বিশ্বজিৎ চলে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার বোনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমার বোনের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’

লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস আরও জানান, এ ঘটনায় তাঁদের বাবা ননী চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, ঘটনাটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবার এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তারা মামলা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।

লক্ষ্মী রানীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।