রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম। অপরাধ নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যয়, পুলিশ, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় মুরাদনগরকে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুরাদনগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মুরাদনগর থানা কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদক কারবারি, উৎপাদনকারী ও সেবনকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। তবে অভিযানের ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তি বা শিক্ষার্থী যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস থানার সার্কেল কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামানকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, সন্ধ্যার পর অযথা বাইরে ঘোরাফেরা না করে ঘরে থেকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকেরা অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। তাঁরা পুলিশের সহযোদ্ধা। মাদক কারবারি, মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রকৃত সদস্যদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় নিরপরাধ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি এড়াতে হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, মুরাদনগরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে পুলিশের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্য অর্জনে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই মুরাদনগরকে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 








