মাহবুব আলম আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মাহবুল (২৮) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকার রাস্তার পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহবুল উপজেলার গকুলনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মাহবুল তার অটোরিকশা নিয়ে দুই যাত্রীকে বহন করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরপর শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশের ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহবুলের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মো. নাঈম ইসলাম (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টিলি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি মুরাদনগরের নগরপাড় এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা ছিনতাই বা চুরির উদ্দেশ্যে মাহবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি কোদালকাটা-মির্জাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান মাহবুলের পরিবার। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মাহবুব আলম আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 
















