ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজেহাল অবস্থা: ১০৯ পদ শূন্য

কাজী শরিফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা):

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি বর্তমানে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২৮২ হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭৩ জন। ফলে ১০৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

অনুমোদিত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৫ জন। ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৩ জন। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত এবং কয়েকজন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।

নার্সিং সেবাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। অনুমোদিত ৪২ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১৫৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ১০২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৯টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৪ জন।

জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি সহায়তার অভাবে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পুরো হাসপাতালের জন্য নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র একজন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন দুইজন, ফলে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় একটি উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের এমন অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকটও প্রকট। হাসপাতাল চত্বরে থাকা আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জনবল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।”

মুরাদনগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ, অচল সেবাগুলো চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় উপজেলার লাখো মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।

মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে উধাও হচ্ছে তিন ফসলি জমি

মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাজেহাল অবস্থা: ১০৯ পদ শূন্য

আপডেট সময় ০২:৪৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কাজী শরিফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা):

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালটি বর্তমানে জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২৮২ হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭৩ জন। ফলে ১০৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

অনুমোদিত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৫ জন। ৪৫ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৩ জন। এছাড়া কয়েকজন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত এবং কয়েকজন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।

নার্সিং সেবাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। অনুমোদিত ৪২ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন। তৃতীয় শ্রেণির ১৫৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ১০২ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৯টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৪ জন।

জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি সহায়তার অভাবে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পুরো হাসপাতালের জন্য নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন মাত্র একজন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন দুইজন, ফলে বিশাল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় একটি উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের এমন অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকটও প্রকট। হাসপাতাল চত্বরে থাকা আবাসিক ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় দুই বছর আগে আবেদন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “সরকার স্বাস্থ্য খাতে ৫ হাজার চিকিৎসক, নার্সসহ প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জনবল সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।”

মুরাদনগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ, অচল সেবাগুলো চালু এবং আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অন্যথায় উপজেলার লাখো মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।