ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
“চোর ধরেও আসামি!”

মুরাদনগরে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরির ঘটনার বিচার করায় উল্টো সালিশকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামে বাখরাবাদ সড়কে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ১৮ মার্চ শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরির অভিযোগে নাজির নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। ওই সালিশে অভিযুক্তের বাবা আলী মিয়ার উপস্থিতিতে নাজিরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কিন্তু জরিমানা পরিশোধ না করে গত ৩১ মার্চ আলী মিয়া উল্টো সালিশকারীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১১ নম্বর আমলি আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন স্কুল ও আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “হাতেনাতে চোর ধরেও যদি উল্টো আসামি হতে হয়, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্ত নাজির ও তার সহযোগীরা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় বক্তারা দ্রুত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বিষয়টি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি তারা মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—আব্দুল আজকার, আশরাফুল হক, আব্দুল জলিল, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল খালেক, আব্দুল কাদির, মো. রফিক, আবু তাহের, আব্দুল মতিন, আব্দুর রব, শাহ আলম, বদির মিয়া, জামাল হোসেন, নুরে আলম, কামরুল, আক্তার হোসেন, আবু মুসা, আলেক মিয়া, মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে বন্ধুর জন্য ন্যাড়া হলেন ৯ বন্ধু

“চোর ধরেও আসামি!”

মুরাদনগরে সালিশকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০১:২৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরির ঘটনার বিচার করায় উল্টো সালিশকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামে বাখরাবাদ সড়কে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ১৮ মার্চ শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরির অভিযোগে নাজির নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। ওই সালিশে অভিযুক্তের বাবা আলী মিয়ার উপস্থিতিতে নাজিরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কিন্তু জরিমানা পরিশোধ না করে গত ৩১ মার্চ আলী মিয়া উল্টো সালিশকারীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১১ নম্বর আমলি আদালতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন স্কুল ও আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “হাতেনাতে চোর ধরেও যদি উল্টো আসামি হতে হয়, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি মীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার একটি কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্ত নাজির ও তার সহযোগীরা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ সময় বক্তারা দ্রুত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বিষয়টি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি তারা মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—আব্দুল আজকার, আশরাফুল হক, আব্দুল জলিল, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল খালেক, আব্দুল কাদির, মো. রফিক, আবু তাহের, আব্দুল মতিন, আব্দুর রব, শাহ আলম, বদির মিয়া, জামাল হোসেন, নুরে আলম, কামরুল, আক্তার হোসেন, আবু মুসা, আলেক মিয়া, মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।