ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কায়কোবাদকে ফেরত আনার প্রস্তাব বাতিল আমিরাতের

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব বাতিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এতে তাঁকে ফেরত আনার ব্যাপারে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ইন্টারপোলের আবুধাবি শাখা (এনসিবি) থেকে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব জানা গেছে।

সূত্র বলেছে, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রেড নোটিশ থাকা কায়কোবাদকে ইউএই থেকে ফিরিয়ে আনতে গত ফেব্রুয়ারিতে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। এনসিবি আবুধাবি তাদের চিঠিতে বলেছে, ‘বহিঃসমর্পণ প্রস্তাবটি ওই দেশের সরকার বাতিল করেছে।’

কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট সময়ে পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাক্ষর বা স্ট্যাম্প নেই।

সূত্র বলেছে, মন্ত্রণালয় গত ২৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরকে ‘লিমিটেশন পিরিয়ড’ আইনসম্মতভাবে বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এ ব্যাপারে ইউএইর বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কায়কোবাদকে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁকে ফিরিয়ে আনতে আমরা আবারও যথাযথ মাধ্যমে চেষ্টা করব।’

মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলেছে, কায়কোবাদের বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব যথাসময়ে আবুধাবিতে পৌঁছানো হয়নি। কায়কোবাদকে ‘ওয়ারেন্ট তালিকাভুক্ত’ রাখতে এবং পুনরায় গ্রেপ্তার করতে বহিঃসমর্পণ নথি পাঠাতে আবুধাবির ইন্টারপোলের শাখা থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইভাবে নির্দিষ্ট সময়ে ও অসম্পূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ায় ভারত থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ফেরত আনার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সাংসদ কায়কোবাদকে ২০১১ সালের ৩ জুলাই দেওয়া এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই সময় তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে আর দেশে ফেরেননি।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এতে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ শতাধিক ব্যক্তি।

সূত্রঃ প্রথমআলো

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

হজযাত্রীদের সেবায় গভীর রাতে মাঠে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

কায়কোবাদকে ফেরত আনার প্রস্তাব বাতিল আমিরাতের

আপডেট সময় ০৯:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুন ২০১৬

মুরাদনগর বার্তা ডেস্কঃ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব বাতিল করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এতে তাঁকে ফেরত আনার ব্যাপারে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ইন্টারপোলের আবুধাবি শাখা (এনসিবি) থেকে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব জানা গেছে।

সূত্র বলেছে, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রেড নোটিশ থাকা কায়কোবাদকে ইউএই থেকে ফিরিয়ে আনতে গত ফেব্রুয়ারিতে বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়। এনসিবি আবুধাবি তাদের চিঠিতে বলেছে, ‘বহিঃসমর্পণ প্রস্তাবটি ওই দেশের সরকার বাতিল করেছে।’

কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট সময়ে পাঠানো হয়নি। এ ছাড়া প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাক্ষর বা স্ট্যাম্প নেই।

সূত্র বলেছে, মন্ত্রণালয় গত ২৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরকে ‘লিমিটেশন পিরিয়ড’ আইনসম্মতভাবে বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এ ব্যাপারে ইউএইর বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কায়কোবাদকে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁকে ফিরিয়ে আনতে আমরা আবারও যথাযথ মাধ্যমে চেষ্টা করব।’

মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলেছে, কায়কোবাদের বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব যথাসময়ে আবুধাবিতে পৌঁছানো হয়নি। কায়কোবাদকে ‘ওয়ারেন্ট তালিকাভুক্ত’ রাখতে এবং পুনরায় গ্রেপ্তার করতে বহিঃসমর্পণ নথি পাঠাতে আবুধাবির ইন্টারপোলের শাখা থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইভাবে নির্দিষ্ট সময়ে ও অসম্পূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ায় ভারত থেকে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ফেরত আনার বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সাংসদ কায়কোবাদকে ২০১১ সালের ৩ জুলাই দেওয়া এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ওই সময় তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে আর দেশে ফেরেননি।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এতে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ শতাধিক ব্যক্তি।

সূত্রঃ প্রথমআলো