রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা ছিটকে পড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদনগর উপজেলার মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির দাদা-দাদি। এছাড়া চালকসহ আরও দুইজন সামান্য আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা সরকার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা গ্রামের জুতার ব্যবসায়ী দিদার মিয়ার স্ত্রী রৌশন আরা বেগম (৩৮) এবং তার ছেলে ইয়ামিন (৬)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাশারুক গ্রামের মৃত বজলু মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম (৭৩), তার স্ত্রী মিনু আরা বেগম (৬৫), সিএনজি চালক জিসান (৩৫) এবং অপর এক অজ্ঞাত যাত্রী।
আহত তাজুল ইসলাম জানান, স্ত্রী, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কুমিল্লার ময়নামতিতে এক আত্মীয়ের তিন দিনের দোয়া শেষে সিএনজিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে দেবীদ্বারের কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মেয়ে রৌশন আরা বেগম নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর নাতি ইয়ামিনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়নামতি থেকে কোম্পানীগঞ্জগামী একটি সিএনজিতে পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। বারেরা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে ‘পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস’-এর একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৭-৯৩০১) সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা কংসনগর এলাকা থেকে সেটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহত মা-ছেলের মরদেহ এবং দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। স্বজনদের উপস্থিতিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে তাদের একটি টিম কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি 








