ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে পিএমকে’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা পেল ৫ শতাধিক রোগী

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে)। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ মানবিক উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর মুরাদনগরস্থ বাড়ির সামনে আয়োজিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়।

চক্ষু, গাইনী, চর্ম, শিশু, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সারাদিন ধরে ৫ শতাধিক রোগীকে আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও দেশের অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পিএমকে’র এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বিশেষভাবে চক্ষু বিভাগের রোগীদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ প্রদান করেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার। একই সঙ্গে মেডিসিন, গাইনী, চর্মসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরাও নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেন।

ক্যাম্পে আগত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়। যাদের চোখে ছানি বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা ধরা পড়ে, তাদের বিনামূল্যে পাওয়ারের চশমা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপকারভোগীরা জানান, গ্রামের পরিবেশে এমন আধুনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা আমরা আগে কখনও পাইনি। এটি আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অত্যন্ত বড় সহায়তা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পিএমকে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার উজ্জ্বল কুমার দাশ, ক্রেডিট অফিসার রিন্তু কুমার শিল, রাজিব হোসেন, রুহুল আমিন, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডাঃ মোহাম্মাদ মোর্শেদ খান, ডাঃ হুরহিয়া বিনতে ইসলাম, ডাঃ শামসুল আরেফিন চৌধুরী, ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন, ডাঃ উজ্জ্বল মিত্র, ডাঃ মোঃ ইলিয়াস হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকে’র প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেলথ ডাঃ কাজী সুদীপ্তা কবির-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পিএমকে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আগামী তিন মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন শাখায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ বিতরণ এবং চক্ষু রোগীদের পাওয়ারের চশমা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) শুধু ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মুরাদনগরের এই মেডিকেল ক্যাম্প সেই মানবিক দায়িত্ববোধেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণপাড়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

মুরাদনগরে পিএমকে’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা পেল ৫ শতাধিক রোগী

আপডেট সময় ০১:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে)। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। এ মানবিক উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর মুরাদনগরস্থ বাড়ির সামনে আয়োজিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়।

চক্ষু, গাইনী, চর্ম, শিশু, সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সারাদিন ধরে ৫ শতাধিক রোগীকে আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও দেশের অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পিএমকে’র এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বিশেষভাবে চক্ষু বিভাগের রোগীদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ প্রদান করেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার। একই সঙ্গে মেডিসিন, গাইনী, চর্মসহ অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসকরাও নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা দেন।

ক্যাম্পে আগত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়। যাদের চোখে ছানি বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা ধরা পড়ে, তাদের বিনামূল্যে পাওয়ারের চশমা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপকারভোগীরা জানান, গ্রামের পরিবেশে এমন আধুনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা আমরা আগে কখনও পাইনি। এটি আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অত্যন্ত বড় সহায়তা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পিএমকে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার উজ্জ্বল কুমার দাশ, ক্রেডিট অফিসার রিন্তু কুমার শিল, রাজিব হোসেন, রুহুল আমিন, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডাঃ মোহাম্মাদ মোর্শেদ খান, ডাঃ হুরহিয়া বিনতে ইসলাম, ডাঃ শামসুল আরেফিন চৌধুরী, ডাঃ মোঃ মহিউদ্দিন, ডাঃ উজ্জ্বল মিত্র, ডাঃ মোঃ ইলিয়াস হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকে’র প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেলথ ডাঃ কাজী সুদীপ্তা কবির-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পিএমকে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আগামী তিন মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন শাখায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ বিতরণ এবং চক্ষু রোগীদের পাওয়ারের চশমা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পল্লীমঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) শুধু ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মুরাদনগরের এই মেডিকেল ক্যাম্প সেই মানবিক দায়িত্ববোধেরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।