ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগর চাঁদমিয়া মোল্লা কলেজে পিঠা উৎসব

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:

কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে সাজানো বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। পাশ থেকেই ভেসে আসছে লোকসঙ্গীতের সুর। সেই সুরের তালে পিঠার স্বাদে শেকড়ের সন্ধান করছেন উৎসবে আসা শিক্ষার্থীরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য আর লোকজ সংস্কৃতির আবেশে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ।

আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার লোকায়িত সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পিঠা উৎসবের প্রধান অতিথি কলেজের সভাপতি ও যুগ্ম সচিব নুরুল হকের পক্ষে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিঠা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও এ আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি যে শুধু একটি খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না। শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো পিঠাকে একটি সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দিনব্যাপী চলা এ পিঠা উৎসবে ১২টি স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, মালাই পিঠা, মেড়া পিঠা, মুঠি পিঠা, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীরকুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা ও চাঁদ পাক্কন পিঠাসহ নানা বাহারি নাম ও স্বাদের পিঠা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শীতকালীন পিঠা উৎসবটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে চোরাই সিএনজিসহ আন্তজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক

মুরাদনগর চাঁদমিয়া মোল্লা কলেজে পিঠা উৎসব

আপডেট সময় ০১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি:

কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে সাজানো বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। পাশ থেকেই ভেসে আসছে লোকসঙ্গীতের সুর। সেই সুরের তালে পিঠার স্বাদে শেকড়ের সন্ধান করছেন উৎসবে আসা শিক্ষার্থীরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য আর লোকজ সংস্কৃতির আবেশে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ।

আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার লোকায়িত সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পিঠা উৎসবের প্রধান অতিথি কলেজের সভাপতি ও যুগ্ম সচিব নুরুল হকের পক্ষে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ এবং বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিঠা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও এ আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি যে শুধু একটি খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না। শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো পিঠাকে একটি সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দিনব্যাপী চলা এ পিঠা উৎসবে ১২টি স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, মালাই পিঠা, মেড়া পিঠা, মুঠি পিঠা, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, ক্ষীরকুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা ও চাঁদ পাক্কন পিঠাসহ নানা বাহারি নাম ও স্বাদের পিঠা।

উৎসবকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শীতকালীন পিঠা উৎসবটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।