তপন সরকার, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় স্বামীকে আটকিয়ে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—ফাঁসির দাবিও জানানো হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হোমনা সদর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে সেটি সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আল রশিদ প্লাসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমাজে চরম অনিরাপত্তা তৈরি করছে এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদারের আহ্বান জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক দম্পতি অটোরিকশাযোগে স্ত্রীর বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে কৃষি ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁদের গতিরোধ করে। পরে স্বামীকে আটকে রেখে নির্জন স্থানে নিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে হোমনা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামি আশিকুর রহমানসহ অন্যরা এখনো পলাতক।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই বাকিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, এর আগেও গত ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার মনিপুর গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, একের পর এক এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনায় হোমনায় জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তপন সরকার, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ 















