ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের মামলার চাপ কমাতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, “গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। স্বল্প সময় ও কম খরচে সাধারণ মানুষ এখান থেকে বিচারসেবা পেতে পারেন। গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনেক ছোট ও মাঝারি ধরনের বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে, যা উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণচন্দ্র দে, মুরাদনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক নির্মল রায়।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত বর্তমানে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সহজ, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। নির্ধারিত সীমার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রকৃতির বিভিন্ন বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা, চুরি, কলহ, মারামারি ও ভরণপোষণসহ নানা বিষয়ে দ্রুত সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৫৫টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ৮২ শতাংশ মামলার সফল নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ছিল ১৩৬টি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় কওমি মাদরাসা সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন

মুরাদনগরে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা

আপডেট সময় ০৬:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের মামলার চাপ কমাতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম আদালত বিষয়ক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বি বলেন, “গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। স্বল্প সময় ও কম খরচে সাধারণ মানুষ এখান থেকে বিচারসেবা পেতে পারেন। গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনেক ছোট ও মাঝারি ধরনের বিরোধ স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে, যা উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণচন্দ্র দে, মুরাদনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক নির্মল রায়।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত বর্তমানে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সহজ, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। নির্ধারিত সীমার মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রকৃতির বিভিন্ন বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা, চুরি, কলহ, মারামারি ও ভরণপোষণসহ নানা বিষয়ে দ্রুত সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৫৫টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ৮২ শতাংশ মামলার সফল নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ছিল ১৩৬টি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।