ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ

স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি, ইইউর সহায়তা চাইল ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ 

ইউরোপজুড়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আর এরই প্রভাবে বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও লাখ লাখ প্রাণ বাঁচাতে বিশাল অঞ্চলের অধিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পেনে প্রথমবারের মতো দাবানলজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, নিজেদের আটলান্টিক উপকূলের অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জরুরি সহযোগিতা চেয়েছে ফ্রান্স।

পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য ফ্রান্সের **ক্যাফ ফেহে** উপদ্বীপে লোকালয়ের একদম কাছে আগুনের লেলহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া পৌঁছে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি ফাঁকা করার নির্দেশ দেয় ফরাসি প্রশাসন। অঞ্চলটি থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৬৩ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এর মধ্যে একটি বড় অংশকে নৌপথে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শেষ রাতে পুলিশের নির্দেশে এলাকা ছেড়ে আসা ২৬ বছর বয়সী ইয়োয়ান ইউরিয়েন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের বসতবাড়ি থেকেই আগুনের ভয়াবহ রূপ চোখে পড়ছিল… আকাশজুড়ে ধোঁয়ার মেঘ কীভাবে ক্রমশ গাঢ় ও কালো হয়ে উঠছিল, তা আমরা প্রত্যক্ষ করছিলাম।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ এক স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে জানান, ক্যাফ ফেহেরের উত্তর প্রান্তের ‘সাওমুস’ এলাকা থেকে জন্ম নেওয়া আগুনটি উপদ্বীপ থেকে বেরোনোর একমাত্র প্রধান সড়কটিকে প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। এটি চলতি বছরের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।

তিনি উল্লেখ করেন, এই আগুনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকা ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অন্তত ৮০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অপরদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা জানান, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকার নানা শহর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই এলাকা এবং সীমান্তবর্তী আভিলা প্রদেশের তিনটি আলাদা দাবানল যেন একত্রিত হয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্লাসকা আরও জানান, জরুরি অবস্থা জারি করার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন অনেক সহজ হবে।

সূত্র: রয়টার্স।

জনপ্রিয় সংবাদ

দাউদকান্দিতে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ

স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি, ইইউর সহায়তা চাইল ফ্রান্স

আপডেট সময় ১১:১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ 

ইউরোপজুড়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আর এরই প্রভাবে বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও লাখ লাখ প্রাণ বাঁচাতে বিশাল অঞ্চলের অধিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পেনে প্রথমবারের মতো দাবানলজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, নিজেদের আটলান্টিক উপকূলের অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জরুরি সহযোগিতা চেয়েছে ফ্রান্স।

পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য ফ্রান্সের **ক্যাফ ফেহে** উপদ্বীপে লোকালয়ের একদম কাছে আগুনের লেলহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া পৌঁছে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি ফাঁকা করার নির্দেশ দেয় ফরাসি প্রশাসন। অঞ্চলটি থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৬৩ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এর মধ্যে একটি বড় অংশকে নৌপথে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শেষ রাতে পুলিশের নির্দেশে এলাকা ছেড়ে আসা ২৬ বছর বয়সী ইয়োয়ান ইউরিয়েন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের বসতবাড়ি থেকেই আগুনের ভয়াবহ রূপ চোখে পড়ছিল… আকাশজুড়ে ধোঁয়ার মেঘ কীভাবে ক্রমশ গাঢ় ও কালো হয়ে উঠছিল, তা আমরা প্রত্যক্ষ করছিলাম।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ এক স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে জানান, ক্যাফ ফেহেরের উত্তর প্রান্তের ‘সাওমুস’ এলাকা থেকে জন্ম নেওয়া আগুনটি উপদ্বীপ থেকে বেরোনোর একমাত্র প্রধান সড়কটিকে প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। এটি চলতি বছরের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।

তিনি উল্লেখ করেন, এই আগুনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকা ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অন্তত ৮০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অপরদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা জানান, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকার নানা শহর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই এলাকা এবং সীমান্তবর্তী আভিলা প্রদেশের তিনটি আলাদা দাবানল যেন একত্রিত হয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্লাসকা আরও জানান, জরুরি অবস্থা জারি করার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন অনেক সহজ হবে।

সূত্র: রয়টার্স।