ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঙ্গরায় আনোয়ার মেম্বার হত্যা: ‘হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের  ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. পিন্টু মিয়া (৪০) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার পিন্টু মিয়া শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত ধবীর মুন্সীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ নম্বর আসামি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পিন্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ‘কিলিং মিশনে’ সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

এ ঘটনায় নিহত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার ঘটনাকে ডাকাতির চেষ্টা ও গণপিটুনি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঙ্গরায় আনোয়ার মেম্বার হত্যা: ‘হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার

আপডেট সময় ০১:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের  ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. পিন্টু মিয়া (৪০) হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার পিন্টু মিয়া শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত ধবীর মুন্সীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ নম্বর আসামি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান (পিপিএম)-এর তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিন্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পিন্টু মিয়া হত্যাকাণ্ডের ‘কিলিং মিশনে’ সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের।

এ ঘটনায় নিহত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার ঘটনাকে ডাকাতির চেষ্টা ও গণপিটুনি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।