ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে গৃহবধূর মৃত্যু: স্বজনদের হত্যা অভিযোগ

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় স্বামীর বাড়ি থেকে আয়েশা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পর ৫ লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে আয়েশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার মুরাদনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আয়েশা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও শাহানাজ বেগমের মেয়ে।

তাঁর স্বামী আবদুল ওহাব (৪০) মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে আবদুল ওহাবের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তাঁরা।

নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁরা আয়েশাকে আর স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। পরে আবদুল ওহাব ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো ঝগড়া-বিবাদ হবে না বলে আশ্বাস দিলে আয়েশাকে তাঁর সঙ্গে পাঠানো হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আয়েশাকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন নিহতের ভাই।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা ওই বাড়িতে গিয়ে উঠানে আয়েশার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় স্বামী আবদুল ওহাব বা তাঁর পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার আবদুল ওহাবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে একটি ছোট মেয়ে ফোন ধরে বাড়িতে কেউ নেই বলে জানায়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাঁরা হত্যার অভিযোগে মামলা করতে থানায় গেলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুরাদনগরে গৃহবধূর মৃত্যু: স্বজনদের হত্যা অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:২৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় স্বামীর বাড়ি থেকে আয়েশা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতনের পর ৫ লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে আয়েশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার মুরাদনগর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আয়েশা আক্তার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও শাহানাজ বেগমের মেয়ে।

তাঁর স্বামী আবদুল ওহাব (৪০) মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে আবদুল ওহাবের সঙ্গে আয়েশার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর এবং বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তাঁরা।

নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁরা আয়েশাকে আর স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। পরে আবদুল ওহাব ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো ঝগড়া-বিবাদ হবে না বলে আশ্বাস দিলে আয়েশাকে তাঁর সঙ্গে পাঠানো হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আয়েশাকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন নিহতের ভাই।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা ওই বাড়িতে গিয়ে উঠানে আয়েশার মরদেহ দেখতে পান। এ সময় স্বামী আবদুল ওহাব বা তাঁর পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার আবদুল ওহাবের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একপর্যায়ে একটি ছোট মেয়ে ফোন ধরে বাড়িতে কেউ নেই বলে জানায়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাঁরা হত্যার অভিযোগে মামলা করতে থানায় গেলেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।