আবুল কালাম আজাদ ভুইয়া, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গোমতী নদীর প্রায় ১০টি স্থানে অর্ধশতাধিক ভেকু ব্যবহার করে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র। এর ফলে নদী নাব্যতা হারাচ্ছে, প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এককালের স্রোতস্বিনী নদী প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার তথ্য অনুযায়ী, নদীর বাঁধে এই বেপরোয়া কার্যক্রমে ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে চরাঞ্চলের কৃষিজমি, ফলন-বনজ গাছ এবং নদীর তীরবর্তী বসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় সিন্ডিকেট করে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় রাতারাতি সম্পদ সঞ্চয় করছেন।
মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের দৈলারচর ও বোড়ারচর এলাকায় ডাঃ আলী ভূঞার ১০ শতাংশ জমি অবৈধ ইটভাটার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর ১৫০ শতাংশ সরকারি জমি এবং জাহাপুর ইউনিয়ন, হানিফার চার ও শুশুন্ডা চরসহ অন্য স্থানে বালু ও মাটির বেপরোয়া উত্তোলন প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষতি করছে।
সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) কুমিল্লা শাখার সভাপতি শাহ মোঃ আলমগীর খাঁন বলেন, ‘গোমতী নদীর বালু-মাটি উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে নদী নাব্যতা হারাবে এবং বর্ষাকালে বাঁধ ভেঙে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ জরুরি।’
পাউবো কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধ করতে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সরজমিনে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।’
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, ‘গোমতীর চর থেকে কোনোভাবে অবৈধভাবে মাটি কাটতে দেওয়া হবে না। মাটি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হলো।’
নদীর বাঁধ ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবন ও ফসল সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়রা তুলেছেন।
আবুল কালাম আজাদ ভুইয়া, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 










