ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে উধাও হচ্ছে তিন ফসলি জমি

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রমজানকান্দা বিলে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করায় কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন কমছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ, অন্যদিকে ধসে যাচ্ছে আশপাশের জমি, ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারও শুরু হয় মাটি কাটার কার্যক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রমজানকান্দা বিলে মাইলের পর মাইল পাইপলাইন বসিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব মাটি বিভিন্ন এলাকায় জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ড্রেজিংয়ের কারণে ফসলি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে পাশের জমিগুলো ধসে পড়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

রমজানকান্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ, আব্দুল গফুর ও ধনু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই কোনো না কোনোভাবে ড্রেজার মালিকরা খবর পেয়ে যান। তখন তারা মেশিন বন্ধ করে সরে পড়েন। পরে প্রশাসনের অভিযান শেষ হলে আবারও মাটি কাটা শুরু করেন। নিজেদের জমির ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে অনেক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তারা আরও জানান, একই এলাকায় দুটি ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। একটি ড্রেজার বন্ধ করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই পাশেই আরেকটি ড্রেজার বসিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, “একজনের অনুরোধে আমি জায়গা ভরাটের কাজ করছি।”

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান বলেন, “ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে এক সময় এলাকার উর্বর কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে উধাও হচ্ছে তিন ফসলি জমি

মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে উধাও হচ্ছে তিন ফসলি জমি

আপডেট সময় ০২:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রমজানকান্দা বিলে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করায় কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন কমছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ, অন্যদিকে ধসে যাচ্ছে আশপাশের জমি, ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবারও শুরু হয় মাটি কাটার কার্যক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রমজানকান্দা বিলে মাইলের পর মাইল পাইপলাইন বসিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব মাটি বিভিন্ন এলাকায় জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ড্রেজিংয়ের কারণে ফসলি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে পাশের জমিগুলো ধসে পড়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

রমজানকান্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ, আব্দুল গফুর ও ধনু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই কোনো না কোনোভাবে ড্রেজার মালিকরা খবর পেয়ে যান। তখন তারা মেশিন বন্ধ করে সরে পড়েন। পরে প্রশাসনের অভিযান শেষ হলে আবারও মাটি কাটা শুরু করেন। নিজেদের জমির ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে অনেক কৃষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তারা আরও জানান, একই এলাকায় দুটি ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। একটি ড্রেজার বন্ধ করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই পাশেই আরেকটি ড্রেজার বসিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, “একজনের অনুরোধে আমি জায়গা ভরাটের কাজ করছি।”

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাসান খান বলেন, “ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে এক সময় এলাকার উর্বর কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।