ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

মাহবুব আলম আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেরায় শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের নহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীনের দিকে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে ৬টি রুমবিশিষ্ট একটি আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত এই ওয়াশব্লক রাখা হয় তালাবদ্ধ। মূলত শিক্ষকরাই এটি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে থাকা পুরোনো টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ কারণে টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িগুলোতে যেতে হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওয়াশব্লকটি তাদের জন্য নির্মাণ করা হলেও প্রধান শিক্ষক সেটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে নিজেদের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করতে পারলেও দূরের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে টয়লেট খুঁজতে হয়।

শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাঈদ ইসলামের মা জাহানারা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় তার ছেলে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলে তিনি প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীনের কাছে ওয়াশব্লকের চাবি চান। চাবি না দিয়ে ওই প্রধান শিক্ষক সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় পথেই শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে তাকে টয়লেট করাতে হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি উপেক্ষা করা হলে তা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীন। তিনি বলেন, নতুন ওয়াশব্লকের ছয়টি রুমের মধ্যে তিনটি রুম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়। কোনো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হলে চাবি দিয়ে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, একজন প্রধান শিক্ষক ছাড়াও মানবিক দিক বিবেচনা করে ওয়াশব্লক ব্যবহার করতে দেয়া উচিত। খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:১৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মাহবুব আলম আরিফ, বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেরায় শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবহার করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের নহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীনের দিকে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে ৬টি রুমবিশিষ্ট একটি আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত এই ওয়াশব্লক রাখা হয় তালাবদ্ধ। মূলত শিক্ষকরাই এটি ব্যবহার করেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে থাকা পুরোনো টয়লেটটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ কারণে টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িগুলোতে যেতে হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওয়াশব্লকটি তাদের জন্য নির্মাণ করা হলেও প্রধান শিক্ষক সেটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে নিজেদের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করতে পারলেও দূরের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে টয়লেট খুঁজতে হয়।

শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী জুনাঈদ ইসলামের মা জাহানারা বেগম জানান, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় তার ছেলে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলে তিনি প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীনের কাছে ওয়াশব্লকের চাবি চান। চাবি না দিয়ে ওই প্রধান শিক্ষক সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় পথেই শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে তাকে টয়লেট করাতে হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি উপেক্ষা করা হলে তা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা আবেদীন। তিনি বলেন, নতুন ওয়াশব্লকের ছয়টি রুমের মধ্যে তিনটি রুম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়। কোনো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন হলে চাবি দিয়ে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, একজন প্রধান শিক্ষক ছাড়াও মানবিক দিক বিবেচনা করে ওয়াশব্লক ব্যবহার করতে দেয়া উচিত। খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।