রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন সড়কের কার্পেটিং (পিচ) হাত দিয়ে তুলে ভিডিও ধারণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ।
তিনি এ ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি ও ভ্যান্ডালিজমের শামিল উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড উন্নয়নকাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি সরকারি সম্পদেরও ক্ষতি করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পায়ব সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
জানা যায়, পায়ব সড়কের কার্পেটিং কাজ চলমান রয়েছে। শুক্রবার দিনের কাজ শেষে শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক নির্মাণাধীন সড়কের পিচ হাত দিয়ে তুলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর নজরে এলে তিনি পরদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, কার্পেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর একটি সড়ক পুরোপুরি শক্ত ও স্থিতিশীল হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। এ সময় পর্যাপ্ত রোদ এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলের মাধ্যমে পিচ ধীরে ধীরে শক্ত হয়। তাই নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে পিচ তুলনামূলক নরম থাকায় হাত বা অন্য কোনো আঘাতে সহজে উঠে আসতে পারে, যা নির্মাণপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের মান নিয়ে কারও সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদার বা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো উচিত। কিন্তু শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারি সম্পদ নষ্ট করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি উন্নয়নকাজে প্রকৃত কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের অবহিত করুন। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। কিন্তু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী থাকা পায়ব সড়কটি সংস্কারের ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে। তাদের মতে, নির্মাণকাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলছে এবং কাজের মানও সন্তোষজনক। স্থানীয়রা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি 















