রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা এলাকায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এক বোতল বিদেশি মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ৪১ হাজার ৪৪০ টাকাসহ ১২ জনকে আটক করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদক সেবনকারী এবং নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে আকুবপুর ইউনিয়নের বলিঘর এলাকায় কেরামত আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আব্দুল হকের ছেলে লিটন মিয়া (৪২)-এর শয়নকক্ষ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে একই ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় সালাম শাহ মাজারের সামনে পলাতক আসামি শাহপরানের দোকানঘরের উত্তর পাশের কোণ থেকে এক বোতল বিদেশি মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ৪১ হাজার ৪৪০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে চাপিতলা ইউনিয়নের রাজা চাপিতলা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ইউনুছ (৪৫) ও ইয়াকুব আলী (৬০)-কে আটক করা হয়।
মাদক সেবনের অভিযোগে আকুবপুর ইউনিয়নের খাঁ বাড়ি এলাকার হাসান (২১), আন্দিকুট ইউনিয়নের জারেরা পশ্চিম জাড্ডা এলাকার রাজু মিয়া (২৪), আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর এলাকার মোবারক হোসেন (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার মনির হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হক (৩২)-কে আটক করা হয়।
এ ছাড়া পুলিশের পৃথক অভিযানে আকুবপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়ি এলাকার ইকবাল হোসেন (৩০), পূর্ব ধৈইর (পূর্ব) ইউনিয়নের চাপৈর এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪৫), রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সাহেবনগর মোল্লা বাড়ি এলাকার হেলাল মিয়া (২৪), একই ইউনিয়নের বাবু সরকার বাড়ি এলাকার ফারুক (২২) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার গাওরাটুলি হাজী বাড়ি এলাকার সজল (৩০)-কে আটক করা হয়।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, “মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাঙ্গরা বাজার থানাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশ জানায়, আটক ১২ জনকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাঙ্গরা এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 













