ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানা, অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকায় আবাসিক পরিবেশের মধ্যেই অবৈধভাবে পরিচালিত একটি চুন কারখানাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে চুন উৎপাদন করা হচ্ছিল। এর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের জনপদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসতবাড়ির মাঝখানে স্থাপিত

কারখানাটিতে দিন-রাত চুল্লি জ্বালিয়ে পাথর পোড়ানো হতো। বিশেষ করে রাতের বেলায় ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়তেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। কারখানা থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়া আশপাশের বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে।

একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, “রাত হলে ধোঁয়ার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও রক্ষা পাওয়া যায় না। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল গ্রামের বাসিন্দা মোমেন মিয়া কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মামুন মিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া জায়গায় কারখানাটি পরিচালনা করছিলেন। তবে কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)-এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিজিডিসিএলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আবু ওবায়েদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা যায়, চারটি নজেলের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে চুন কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছিল। পরে বিজিডিসিএলের ভিজিল্যান্স ও লাইসার টিম অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জায়গার মালিক মামুন, ভাড়াটিয়া মোমেন এবং সহকারী বিল্লালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, “আবাসিক এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী শিল্পকারখানা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আবাসিক এলাকা থেকে এ ধরনের দূষণকারী কারখানা স্থায়ীভাবে অপসারণ করে নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

মুরাদনগরে ড্রেজারের দাপটে উধাও হচ্ছে তিন ফসলি জমি

মুরাদনগরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানা, অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় ০৮:১৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকায় আবাসিক পরিবেশের মধ্যেই অবৈধভাবে পরিচালিত একটি চুন কারখানাকে ঘিরে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে চুন উৎপাদন করা হচ্ছিল। এর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে আশপাশের জনপদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসতবাড়ির মাঝখানে স্থাপিত

কারখানাটিতে দিন-রাত চুল্লি জ্বালিয়ে পাথর পোড়ানো হতো। বিশেষ করে রাতের বেলায় ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়তেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। কারখানা থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়া আশপাশের বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করছে।

একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, “রাত হলে ধোঁয়ার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও রক্ষা পাওয়া যায় না। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার সংচাইল গ্রামের বাসিন্দা মোমেন মিয়া কোম্পানীগঞ্জ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মামুন মিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া জায়গায় কারখানাটি পরিচালনা করছিলেন। তবে কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)-এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিজিডিসিএলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আবু ওবায়েদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা যায়, চারটি নজেলের মাধ্যমে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে চুন কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছিল। পরে বিজিডিসিএলের ভিজিল্যান্স ও লাইসার টিম অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জায়গার মালিক মামুন, ভাড়াটিয়া মোমেন এবং সহকারী বিল্লালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, “আবাসিক এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী শিল্পকারখানা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আবাসিক এলাকা থেকে এ ধরনের দূষণকারী কারখানা স্থায়ীভাবে অপসারণ করে নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।