রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫০ শয্যার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে। অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা তথ্য ব্যবস্থা (এমআইএস) শাখা প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক দফা তদবিরের ফলেই এ গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন মিলেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি মুরাদনগরের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন এবং হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে শয্যা সংকট, চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবায় চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলে শুধু শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণই হবে না, পর্যায়ক্রমে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, নতুন সেবা ইউনিট চালু এবং চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে। এর ফলে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার রোগীরাও উপকৃত হবেন এবং কুমিল্লা ও ঢাকামুখী রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মুরাদনগরের স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের এ দাবির বাস্তবায়নে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর উদ্যোগেই হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি অনুমোদন এসেছে, যা উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ সিদ্ধান্তে মুরাদনগরজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দুলাল দেবনাথ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধর্মমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে ১০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মুরাদনগরের স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হবে।
রায়হান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ 













