কাজী শরিফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও মুরাদনগরের একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে চরম শিক্ষক ও জনবল সংকটে পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার মান এবং হতাশ হয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া গণিত বিষয়ে দুটি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। একইভাবে ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়েও দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন করে শিক্ষক।
শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়ন, ঝাড়ুদার ও নাইট গার্ডের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। অস্থায়ী কর্মচারীদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ও জনবলের সংকট রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালভাবে আবেদন করলে বিষয়টি মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে, যাতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
এলাকাবাসীর দাবি, ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুরাদনগর ডি.আর. সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি মুরাদনগরের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি। এমন একটি ঐতিহাসিক সরকারি বিদ্যালয়ে বছরের পর বছর শিক্ষক ও কর্মচারীর গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ সব শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাজী শরিফ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ 


















